ভারতে সিংহের সংখ্যা পাঁচ বছরে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি

india lion
    • Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
    • Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
  • Published

ভারতে এশিয়াটিক সিংহের সংখ্যা গত পাঁচ বছরের ভেতর পঁচিশ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে নতুন এক শুমারিতে দাবি করা হয়েছে।

২০১০ সালেও ভারতে সিংহ বা এশিয়াটিক লায়নের মোট সংখ্যা ছিল ৪১১, কিন্তু এ বছর নতুন সিংহ-শুমারির পর দেখা যাচ্ছে তাদের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫২৩।

ভারতের একটিমাত্র রাজ্য গুজরাটেই সিংহের দেখা মেলে, আর এই নতুন পরিসংখ্যানও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী আনন্দীবেন প্যাটেল নিজে।

বহুদিন ধরেই সিংহকে ভারতের জাতীয় পশু হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে আসছেন ভারতে রাজ্যসভার এমপি পরিমল নাথানিয়া।

বিবিসিকে তিনি বলেন, সিংহের এই সংখ্যাবৃদ্ধির পর তার দাবির যৌক্তিকতাই প্রমাণিত হল।

বাঘ না সিংহ?

এই মুহূর্তে ভারতের জাতীয় পশু হল বাঘ বা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।

কিন্তু তার বদলে সিংহকে ভারতের জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি এই মুহূর্তে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন আছে।

ওই মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা ন্যাশনাল বোর্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ গত ১৪ মার্চ তাদের এক বৈঠক থেকে এই প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখার জন্য একটি কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছে।

তবে পরিবেশবাদীদের অনেকেই বলছেন ভারতে সিংহের তুলনায় বাঘের সংখ্যা অনেক বেশি, বাঘের দেখাও মেলে অনেকগুলো রাজ্যে, কাজেই জাতীয় পশু হিসেবে বাঘের দাবি অনেক জোরালো।

তাছাড়া মাসকয়েক আগে সরকার যে সবশেষ বাঘ-শুমারির ফল প্রকাশ করেছে তাতেও দেখা গেছে মাত্র চার বছরের মধ্যে দেশে বাঘের সংখ্যাও ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

তবে ভারতের সিংহের একমাত্র আবাসস্থল যেহেতু গুজরাটের সাসানগির অভয়ারণ্য আর গুজরাট ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য, তাই এই বিতর্কে যোগ হয়েছে একটা রাজনৈতিক মাত্রাও।

তবে ন্যাশনাল বোর্ড অব ওয়াইল্ড লাইফের অন্যতম সদস্য এবং ভারতে জাতিসংঘের সংস্থা আইইউসিএনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ পি আর সিনহা বিবিসিকে বলেছেন, "হতে পারে গুজরাট নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য, কিন্তু এশিয়াটিক লায়নের সংরক্ষণে তারা যে অসাধারণ কাজ করেছেন সেটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই।’

কিন্তু ভারতে বাঘ আর সিংহ – এই দুই প্রাণীরই সফল বংশবিস্তারের পর এখন দেখার বিষয় জাতীয় পশুর খেতাব বাঘেরই দখলে থাকে, না কি ন্যাশনাল বোর্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ সিংহের পক্ষেই রায় দেয়।