মানবতাবিরোধী অপরাধে মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল

আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ
ছবির ক্যাপশান, আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ
    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, আল বদর বাহিনীর নেতা হিসেবে এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে এই প্রথম দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে কারও ফাঁসির রায় এলো।

আসামী পক্ষের আইনজীবীরা এই রায় রিভিউ বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করার কথা জানিয়েছেন।

মি: মুজাহিদ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ছিলেন।

নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়ের ঠিক দু’দিন আগে লেখক, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, চিকিৎসক সহ বুদ্ধিজীবীদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছিল।

এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো এবং পরিকল্পনা করার জন্য জামায়াতের তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ থেকে গঠিত আল বদর বাহিনীকে দায়ী করা হয়ে থাকে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ১৯৭১ সালে আল বদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন।

তাঁর বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা করা এবং নির্দেশ দেয়ার বিষয়কে বড় অভিযোগ হিসেবে আনা হয়।

এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মি: মুজাহিদের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দিয়েছিল ২০১৩ সালের জুলাই মাসে।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ সেই ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছেন।

অ্যাটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, শেষ পর্যন্ত বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার পাওয়া গেলো।

আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ জামায়াতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা
ছবির ক্যাপশান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ জামায়াতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা

এটাকে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সান্তনা বলে মনে করেন।

আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে ফরিদপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে হত্যা এবং নির্যাতনের অভিযোগেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফাসির আদিশ দিয়েছিল।

তবে আপিল বিভাগ এই অভিযোগে ফাঁসির আদেশ বহাল না রেখে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট পাঁচটি অপরাধে সাজা হয়েছিল।

এর মধ্যে সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে হত্যার অভিযোগে আপিল বিভাগ তাকে খালাস দিয়েছে।

তবে নাখালপাড়া সেনাক্যাম্পে আলতাফ মাহমুদ, রুমী, বদি এবং আজাদ সহ কয়েকজনকে হত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

এছাড়া ফরিদপুরে রণজিৎ নাথকে আটক রেখে নির্যাতনে দায়ে পাঁচ বছরের সাজাও আপিল বিভাগ বহাল রেখেছে।

তবে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ফাঁসি সর্বোচ্চ আদালতেও বহাল থাকার বিষয়ে অসন্তুষ্ট জামায়াত নেতার পক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের যে দশজন শীর্ষ নেতার বিচার হয়েছে ট্রাইব্যুনাল থেকে, তাদের মধ্যে এর আগে আপিল বিভাগের সব প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত রায়ের পর আব্দুল কাদের মোল্লা এবং মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।