পবিত্র বনাঞ্চল রক্ষায় উপজাতিদের জাতিসংঘে আবেদন

bbc
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশ ভারতের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া
Published

বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের কয়েকশো উপজাতীয় প্রধানরা বলছেন দুই দেশের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া স্থল সীমা চুক্তির বিরুদ্ধে তাঁরা জাতিসংঘের কাছে আবেদন করবেন।

মেঘালয়ের উপজাতিগুলির সর্বোচ্চ পরিষদ – গ্র্যান্ড কাউন্সিল অফ চীফস এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে প্রথমে এই চুক্তির ফলে যাতে উপজাতিগুলির আইনি অধিকার লঙ্ঘিত না হয়, তার জন্য রাজ্য আর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হবে।

কিন্তু তাতে কাজ না হলে জাতিসংঘের কাছে যেতে তাঁরা বাধ্য হবেন।

bbc
ছবির ক্যাপশান, চলতি মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় স্থল সীমান্ত চুক্তি চূড়ান্ত রুপ পায়

এদের দাবী, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নতুন করে সার্ভে করা হোক এই চুক্তি বাস্তবায়িত করার আগে।

এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে উমক্রেম গ্রামে বসবাসকারী রিঙক্সাই উপজাতিদের কাছে অতি পবিত্র একটি বনাঞ্চলের অধিকার হারাবেন সেখানকার মানুষ।

গ্র্যান্ড কাউন্সিল অফ চীফসের প্রধান জন এফ খারশিংয়ের কথায়, পবিত্র বনাঞ্চলগুলিতে যেমন আদিবাসীরা তাঁদের পূজাঅর্চনা করেন, তেমনই এঁদের পূর্বপুরুষদের কবরও রয়েছে সেখানে। স্থল সীমা চুক্তির পরে ভারত যদি নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া তৈরি করে, তাহলে ওই বনাঞ্চলটিতে আর যেতে পারবেন না রিঙক্সাই উপজাতির মানুষ। এটাও উপজাতিদের অধিকার হরণ।“

bbc
ছবির ক্যাপশান, স্থল সীমান্ত চুক্তির ফলে ছিটমহলের নাগরিকরা কোন দেশের নাগরিক হবেন সেটা পছন্দ করার সুযোগ থাকছে।(ছবিটি ভারতের একটি ছিটমহলের)

জন এফ খারশিং বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “ভারতের অন্যান্য প্রদেশের মতো মেঘালয় বা মিজোরামে জমির মালিকানা সরকারে নয়। এগুলির মালিক একেকটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী উপজাতিগুলি। যৌথ মালিকানা উপজাতিটির সব সদস্যের। বহু শতাব্দী ধরে এটাই আইন। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে যখন চুক্তি হল, তখন উপজাতিগুলিকে সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হল না – যারা জমির মালিক।“

উপজাতিগুলির প্রধানদের কথায়, ১৯৪৭ সালে র‍্যাডক্লিফ লাইন টানার সময়ে যে সব ভুলগুলো হয়েছিল, দুই সরকারের উচিত ছিল অতীতের এইসব ভুলগুলো এবার শুধরে নেওয়া।

উপজাতীয় প্রধানরা আরও বলছেন, মেঘালয় সরকারের অধীনে একটি কমিটি আগে যে প্রতিবেদন পেশ করেছিল, তার সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির ফারাক রয়েছে।

২৭০ একরেরও বেশী উপজাতীয়দের জমির কোনও খোঁজ আনুষ্ঠানিক চুক্তিটিতে নেই। সেই জমি কোথায় গেল, সেটা উপজাতীয় প্রধানেরা জানেন না।