রাজন হত্যার ঘটনায় আরো একজন রিমান্ডে

সন্দেহভাজন আসামী মুহিত আলম
ছবির ক্যাপশান, সন্দেহভাজন আসামী মুহিত আলম
Published

বাংলাদেশের পুলিশ কিশোর শেখ সামিউল আলম (রাজন)-কে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় আরো এক ব্যক্তিকে রিমান্ডে নিয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ইসমাইল হোসেন আবলুছ অন্য এক আসামি মুহিত আলমের শ্যালক। মঙ্গলবার সকালে সিলেটর মহাসড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সন্দেহভাজনকে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আর্জি জানালে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

অন্যান্য পলাতক আসামি সম্পর্কে তথ্য জানতে পুলিশ সোমবার রাতে মুহিত আলমের স্ত্রী লিপি বেগমকেও আটক করে।

রাজনকে পিটিয়ে হত্যার অন্যতম আসামি প্রবাসী কামরুল ইসলাম সোমবার সৌদি আরবে ধরা পড়েন। ঐ ঘটনার পরপরই তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আখতার হোসেন বিবিসিকে বলেন, পালিয়ে থাকা আরও দু’আসামীকে গ্রেফতারে সর্বাত্মক অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, “এ ঘটনায় আমরা ঘটনায় সময় উপস্থিত ছিলো এমন দুজনকে গ্রেফতার করেছি। পরে তাদের জবানবন্দী আদায়ের জন্য আদালতে পাঠিয়েছি। একজনের নাম ফিরোজ আলী আর অন্যজন হাসমত উল্লাহ।”

অপর দু আসামী চৌকিদার ময়না ও হায়দার আলীকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।

সন্দেহভাজন আসামী কামরুল ইসলাম এখন সৌদি আরবে আটক।
ছবির ক্যাপশান, সন্দেহভাজন আসামী কামরুল ইসলাম এখন সৌদি আরবে আটক।

আসামীদের অর্থের বিনিময়ে পুলিশ পালিয়ে যেতে সাহায্য রাজনের পরিবারের এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, “এর কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। তাৎক্ষণিকভাবে রাজনের কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করেছে কিন্তু তখন পর্যন্ত রাজনের লাশ সনাক্ত করা যায়নি।”

যাদের ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে কিশোর রাজনকে হত্যার কারণ সম্পর্কে কী জানা গেছে, কেন এমন নির্মমভাবে খুন করা হলো তাকে, কি বলছে আটক হওয়া ব্যক্তিরা ? এমন প্রশ্নের জবাবে মি. হোসেন বলেন, “তারা তো আগের কথাই বলে যে চোর সন্দেহে তারা ধরেছে। রিকশা ভ্যান চুরির কথা বলছে কিন্তু সেটি বিশ্বাস করা যাচ্ছেনা। বিস্তারিত তদন্তের পর এসব নিয়ে বলা যাবে।”

তবে সিলেটে মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনের পিতা তার সাথে পুলিশের দুর্ব্যবহার ও তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে গাফলতির যে অভিযোগ করেছে তা তদন্তের জন্য একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আগামী তিনদিনের মধ্যে এ কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

ওদিকে রাজনকে খুঁটির সাথে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা ও সিলেটে মঙ্গলবারও নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

সিলেটে এক বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। কর্মসূচি পালিত হয়েছে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও।

কর্মসুচির একজন উদ্যোক্তা ইরফানুজ্জামান বলেন, “ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেছি। আমাদের দাবি একটাই দাবি রাজনের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা করা।”

গত সপ্তাহে ১৩-বছর বয়সী সামিউল আলম রাজনকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের পর তার মৃত্যুর ঘটনার ভিডিও ইউটিউব ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার এনিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

ইউটিউবে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওই কিশোরকে একটি খুঁটির সাথে বেঁধে ক`জন লোক নির্মমভাবে প্রহার ও নির্যাতন করছে।

রাজন হত্যার প্রতিবাদে মুখর মানুষ।
ছবির ক্যাপশান, রাজন হত্যার প্রতিবাদে মুখর মানুষ।