আবর্জনায় নাকাল ঢাকা :দায় আছে নগরবাসীরও

dhaka garbage
ছবির ক্যাপশান, শহরে সিটি কর্পোরেশনের কন্টেইনার দেখা গেলেও ময়লা বাইরেই পড়ে থাকে বেশি।
    • Author, আহরার হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সম্প্রতি একদল বিদেশী নাগরিকের রাস্তা পরিষ্কার করার ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বেশ আলোচনা চলছে।

ঢাকা শহরের ময়লা-আবর্জনা নতুন কোনও বিষয় নয়।

কিন্তু দিনকে দিন পরিস্থিতি আরো অসহনীয় হয়ে উঠছে।

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখার পেছনে যেমন নাগরিকদের দায় রয়েছে, তেমনি দায়িত্বহীনতা রয়েছে নগর কর্তৃপক্ষেরও।

কিন্তু এর জন্য ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সকলেই।

মিরপুর থেকে ফার্মগেটের দিকে চলে যাওয়া রোকেয়া সরণী নামের রাস্তাটি ধরে এগিয়ে চলছিল একটি ভ্যান রিকশা, পেছনে পচে-গলে ওঠা রান্নাঘরের আবর্জনা উপচে পড়ছে।

এই ভ্যানটির চালক শাহ আলম বলছেন, এগুলো বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা রান্নাঘরের আবর্জনা, তালতলা এলাকায় রাখা সিটি কর্পোরেশনের ময়লার কন্টেইনারে রাখা হবে এসব ময়লা।

Dhaka garbage
ছবির ক্যাপশান, বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করার উদ্যোগ চলছে নানা পাড়ায়। কিন্তু তা কতটা কাজ করছে?

তালতলায় গিয়ে দেখা যায়, মূল সড়কের একটি লেন দখল করে সিটি কর্পোরেশনের কয়েকটি ময়লার কন্টেইনার রাখা।

আবর্জনা যতটা কন্টেইনারের ভেতরে, বাইরে তার চাইতে বেশী।

এর ঠিক পাশেই একদল যাত্রীর জটলা, কোনওমতে নাক-মুখ চেপে দাঁড়িয়ে আছেন তারা।

আর বাসগুলোও এসে থামছে ঠিক এখানেই।

যাত্রীদের সাথে কথা বললে, তারা জানালেন, প্রতিদিন এখানকার ময়লার অসহনীয় দুর্গন্ধের মধ্যেই তাদের কর্মস্থলে যাবার যানবাহন ধরতে হয়।

ফুটপাতে কিংবা সড়ক বিভাজনে পথ শিশুদের মল ও মূত্র ত্যাগের দৃশ্য দেখেননি এমন মানুষ ঢাকায় খুব কমই আছেন।

কারওয়ানবাজারের একটি ফুটপাতে মূত্র ত্যাগের পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে সেখানকার দেয়ালেও আরবি ভাষায় নিষেধাজ্ঞা লিখেছিল সরকার, ধারণা ছিল, আরবি ভাষা দেখলে হয়তো সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান অধ্যুষিত এই দেশের নাগরিকেরা মূত্রত্যাগ করবেন না।

Dhaka garbage
ছবির ক্যাপশান, দেয়ালে আরবি লিখেও বন্ধ করা যায়নি খোলা যায়গায় মূত্রত্যাগ।

কিন্তু আজও সেখানে গিয়ে দেখা গেল, আরবি নিষেধাজ্ঞাটি যথাস্থানেই আছে এবং তার সামনেই এত মানুষ মূত্র ত্যাগ করেছে যে তা গড়িয়ে রাস্তায় এসে জমা হচ্ছে।

ফার্মগেট এলাকায় একটি ফুটপাতের মধ্যে দিয়েই বয়ে যাচ্ছে ড্রেনের দুর্গন্ধময় দুষিত পানি, পথচলতি মানুষজন নাক চেপে কোনওমতে জায়গাটি পাশ কাটাচ্ছেন। তেজগাঁওয়ের পুরনো বিমানবন্দরের দেয়াল ঘেঁষা কয়েকটি দোকান, দোকানগুলোর ঠিক সামনেই মূল সড়কে আবর্জনা জড়ো করে রাখা। জানতে চাইলাম এক দোকানী জানালেন, সিটি কর্পোরেশনের ময়লা সংগ্রহকারীরা এসে নিয়ে যাবেন এজন্য সড়কের পাশেই ময়লা জড়ো করে রেখেছেন তিনি।

একটা ব্যাপার স্পষ্ট নাগরিকেরা, নিজের ঘরবাড়ি, রান্নাঘর কিংবা দোকানের সামনেটা নিয়ে যতটা ভাবছেন, শহরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ততটা ভাবছেন না।

নগর কর্তৃপক্ষও যে খুব একটা উদ্যোগী, তা তাদের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে না।

নইলে ময়লার কন্টেইনার কেন সড়কে থাকবে?

আর ফুটপাতেই বা কেন পর্যাপ্ত ডাস্টবিন থাকবে না?

এ অবস্থার প্রতিকার কি, জানতে চাইলে ঢাকার পরিবেশ আন্দোলনকারী সংগঠন গ্রিন সেভারসের সভাপতি আহসান রনি বলেন, ‘দুই কোটি বা দেড় কোটি মানুষের শহরকে কোন নিয়মে আবদ্ধ করে পরিষ্কার রাখা যাবে না। এজন্য নাগরিকদের স্বতঃপ্রণোদিত উদ্যোগ নিতে হবে’।