''কোথায় কোরবানির জায়গা ঠিক করেছে জানতে পারি নি''

ঢাকার সেগুনবাগিচায় সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত একটি কোরবানির স্থান
ছবির ক্যাপশান, ঢাকার সেগুনবাগিচায় সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত একটি কোরবানির স্থান
    • Author, সায়েদুল ইসলাম
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published

বাংলাদেশের ঢাকায় প্রতিবছর অন্তত চার লাখ পশু কোরবানি হয়ে থাকে। সাধারণ বাসার নিচে বা খোলা রাস্তায় কোরবানি হয়ে থাকলেও, এবারই ঢাকার দুইটি সিটি কর্পোরেশন কিছু এলাকা নির্দিষ্ট করে দিয়ে, সেখানেই কোরবানি সম্পন্ন করার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ করেছিল।

তবে ঢাকায় বরাবরের মতোই এবারও অলিগলি আর বাড়ির সামনেই নগরীর বেশিরভাগ বাসিন্দাকে কোরবানি দিতে দেখা গেছে।

অনেকেই বলেছেন নগর কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের সাথে তারা একমত হলেও, সুযোগ সুবিধার কথা চিন্তা করে তারা সেখানে যেতে আগ্রহী হননি।

ঢাকার ক্রিসেন্ট রোডের একটি বহুতল ভবনের বাসিন্দা, আবুল মনসুর আহমেদ বলছেন, কোথায় যেতে হবে, সেখানে কি কি সুবিধা পেতে হবে, সেটা তারা ঠিকভাবে জানতে পারেন নি।

''সেখানে কসাই থাকবে কিনা, পানি পাবো কিনা, আবার পরিবহনের কথা চিন্তা করে আর আমরা সেখানে যেতে চাইনি। তাই বাড়ির সামনেই কোরবানি দিয়েছি।''

সেগুনবাগিচায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত একটি জায়গায় ২০০ পশু কোরবানির ব্যবস্থা থাকলেও, সেখানে চল্লিশটির মতো পশু জবাই হয়েছে।

কাছের ভবনগুলোর বাসিন্দারাই এখানে কোরবানি দিয়েছেন, যারা এর আগের বছরগুলোতেও এখানেই কোরবানি করেছেন।

কোরবানির পর ঢাকার রাস্তায় বর্জ্য পরিস্কার সিটি করপোরেশনগুলোর জন্য বড় একটা সমস্যা
ছবির ক্যাপশান, কোরবানির পর ঢাকার রাস্তায় বর্জ্য পরিস্কার সিটি করপোরেশনগুলোর জন্য বড় একটা সমস্যা

হাফেজ মোঃ. ইব্রাহিম, যিনি কুড়িটির বেশি পশু জবাই করেছেন, তিনি বলছেন, বেশিরভাগ মানুষকে তাদের বাড়ির নিচে বা বাড়ির সামনেই তিনি কোরবানি দিতে দেখেছেন।

ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বনানী, গুলশানে ঘুরে আলাদা কোন চিত্র চোখে পড়ল না। বরং কোথায় কোরবানি দিতে হবে, সে সম্পর্কে বেশিরভাগ কোরবানিদাতার দেখা গেল কোন তথ্য জানা নেই।

"সিটি করপোরেশন এই এলাকায় কোথায় কোরবানি দেওয়ার জায়গা ঠিক করেছে জানতে পারি নি," বলছেন গুলশানের এক বাসিন্দা।

তবে প্রচারণা না থাকার তথ্য নাকচ করে দিয়ে কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এজন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পদ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলছেন, নগরীর পরিবেশের কথা চিন্তা করেই সবার উচিত নিজে থেকে এসব স্থানে পশু নিয়ে এসে কোরবানি করা।

"প্রথমবার বলে হয়তো অনেকে এসব স্থানে আসতে চাননি। তারপরেও অনেকে এসব স্থানে কোরবানি করেছেন।"

সামনের বছরগুলোতে আরো বেশি প্রচারণা করা হবে এবং আরো বেশি মানুষের সাড়া পাওয়া যাবে বলেই তিনি আশা করছেন।

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের হিসাবে, ঢাকায় প্রতিবছর চার লাখ পশু কোরবানি হয়ে থাকে। অলিগলিতে এসব কোরবানি হওয়ায় আবর্জনা পরিস্কারে সমস্যা তৈরির পাশাপাশি নগরীর পরিবেশ নোংরা হয়ে যায়।

তবে কর্মকর্তারা আশা করছেন, ধীরে ধীরে হলেও উদ্যোগটি সফল হবে এবং সেই চিত্র বদলাবে।