চলে যাচ্ছে রোয়ানু। কমপক্ষে ২৪ জন নিহত

- Author, শাহনাজ পারভীন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
সাইক্লোন রোয়ানু বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকা অতিক্রম করে ধীরে ধীরে ভারতের মিজোরামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
সাইক্লোনটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
ভোর থেকে ঝড়ে গাছ পড়ে বা বাড়ি ঘরের নিচে চাপা পড়ে বহু মানুষ নিহত হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, সারাদেশে কমপক্ষে ২৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
কয়েকটি জেলায় বাঁধ ভেঙে বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিদ্যুৎ নেই অনেক এলাকাতেই।
বহু মানুষ এখনো সাইক্লোন সেন্টারে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন।
আবহাওয়া অফিস বলছে, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সব জেলাতেই সাইক্লোন রোয়ানুর প্রভাব ছিলো।
তবে হাতিয়া, সন্দ্বীপ ও ভোলাসহ এর কাছাকাছি জেলাগুলোতেই এর আঘাত ছিলো বেশি শক্তিশালী।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, রোয়ানু দুর্বল হয়ে এখন নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে।

শনিবার দুপুর নাগাদ সাইক্লোনটি বাংলাদেশের উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে প্রবেশ করে।
তবে সেটি ইতিমধ্যেই দুর্বল হয়ে ভারতের মিজোরামের দিকে এগুচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মোঃ আব্দুল মান্নান।
তিনি বলেছেন, সন্ধ্যা সাত-আটটা নাগাদ এপথেই সাইক্লোনটি এগুবে বলে তারা ধারণা করছেন।
ভোর থেকে উপকূলীয় অঞ্চলসহ দক্ষিণের কয়েকটি জেলায় ঝড়ো বাতাসে গাছ চাপা পড়ে বা বাড়ি ঘর চাপা পড়েই বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রাম, ভোলা, নোয়াখালী, কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর থেকেও মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঘরের নিচে চাপা পড়ে মা ও ছেলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নোয়াখালীতে দুই নারী ও একটি শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

নোয়াখালীর নিঝুম দ্বিপ, হাতিয়া, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও মহেশখালী, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সন্দ্বীপ এবং আনোয়ারার বাঁধ ভেঙে বিস্তর এলাকা তলিয়ে গেছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন বলেছেন, বিশেষ করে কুতুবদিয়ার অনেকগুলো ইউনিয়ন তলিয়ে গেছে।
কুতুবদিয়া থেকে দক্ষিণ ধুরং ইউনিয়নের একজন বাসিন্দা আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেছেন, এলাকার মানুষজনের অন্যতম প্রধান পেশা লবণ চাষ।
ঐ এলাকায় বন্যার পানিতে বহু লবণচাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে তিনি বলছেন।
সবমিলিয়ে এই সাইক্লোনে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা যাচাই করতে এখনো সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।








