
জনসভায় তারেক রহমানের বক্তৃতা।
বাংলাদেশের এক আদালত রোববার প্রধান বিরোধীদল বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এক আবেদন মঞ্জুর করেছে। অর্থ পাচারের এক মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন এই আবেদন করে।
ইন্টারপোলের মাধ্যমে পরওয়ানা জারির এই আদেশ এমন সময় এল যখন সম্প্রতি তারেক রহমান লন্ডনে তার দীর্ঘ নিরাবতা ভেঙ্গে দলের একটি সভায় বক্তৃতা করেছেন।
২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত অস্থায়ী সরকারের সময় প্রায় বছর দেড়েক কারাগারে থাকার পর তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আসেন এবং তখন থেকে তিনি লন্ডনেই আছেন।
মি. রহমানের বিরুদ্ধে দুনীতি দমন কশিন অর্থপাচারের এই মামলা দায়ের করে ২০০৯ সালে এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় ২০১১ সালে।

পুলিশি হেফাজতে তারেক রহমান
এবার ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পরোয়ানা পরোয়ানা জারির জন্য দুদক আবেদন করলে ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোজাম্মেল হক তা মঞ্জুর করেন।
কমিশনের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল জানান, তারেক রহমানের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ায় দুদক তাকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে এই আবেদন করেছে।
''তিনি যখন বাংলাদেশ ত্যাগ করেন তখন তিনি প্যারোলে গিয়েছিলেন, পরবর্তীতে এই মামলায় চার্জশিট দাখিলের পর তাকে বারবার আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছিল এবং এ পর্যন্ত গিয়াস উদ্দিন আল মামুন এবং তারেক রহমানের যে ২০ কোটি টাকার অর্থ পাচার মামলা যেটি সিঙ্গাপুর ব্যাংকে এই ঘটনাটা ঘটেছিল, সেই মামলার কার্যক্রমের ১০ম সাক্ষির সাক্ষগ্রহণ কার্যক্রম চলছে। যেহেতু তিনি ফেরারি আমরা তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইন্টারপোলের মাধ্যমে চাইছি।''
এই মামলার দুজন আসামির মধ্যে আরেকজন গিয়াসউদ্দিন আল মামুন বর্তমানে কারাগারে আছেন। আর তারেক রহমান ২০০৮ সালে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার পর আর ফেরেননি।
তারেক রহমানের পক্ষের আইনজীবি মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে তার মক্কেল দেশের বাইরে গেছেন। আদালতের এই রায় নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, ''আদালত ওদের দরখাস্তে যে সকল ভাষা আছে তার সকলই মঞ্জুর করে দিলেন। তারেক রহমান বৈধ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছেন এবং যতদিন পর্যন্ত সুস্থ হবেন না ততদিন তিনি ফিরে আসবেন না এটাই স্বাভাবিক। এ কারণে তো তার মামলা চলার কোনরকম ব্যাঘাত হচ্ছে না।''

লন্ডনের সমাবেশে তারেক রহমান
ক'দিন আগে লন্ডনে দলীয় এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের দেয়া বক্তব্য দেশীয় গণমাধ্যমে প্রচারের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
সরকার দলীয় কয়েকজন নেতা তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়েও কথা-বার্তা বলেন। এমনই প্রেক্ষাপটে রোববার আদালতে এই আবেদন জানায় দুর্নীতি দমন কমিশন।
এই আবেদনের সমালোচনা করে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকার তারেক রহমানের দেশে ফিরে রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের কারণে শংকায় এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মিয়া অভিযোগ করেন, এক্ষেত্রে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দুদকের মত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং আদালতকে ব্যবহার করছে বলে তারা মনে করেন।
তিনি বলেন, ''এই যে আদেশ আদালত দিয়েছেন সেই আদেশ সংক্রান্ত একই ভাষায় আইন প্রতিমন্ত্রী তিনদিন আগে তার বক্তব্যে বলেছেন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে এতেই প্রমাণিত হয়, আদালতগুলো কিভাবে সরকারের দ্বারা প্রভাবিত।''
সরকার কেন প্রভাব বিস্তার করবে এই প্রশ্নে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে লন্ডনে তারেক রহমান দেশের সার্বিক রাজনৈতিক অবস্থার ওপর একটি বক্তব্য দিয়েছেন এবং আমরা যে আন্দোলন করছি তারেক রহমান সাহেব সেখানে বলেছিলেন এই আন্দোলন আরো জোরদার করা হোক। তিনি শুধুমাত্র একবার একটি বক্তব্য দেয়ায় সরকার ভীত হয়ে নিজেরা বক্তব্য দিয়েছেন এবং আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।''
সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের বিরোধীদলের এই অভিযোগ প্রসঙ্গে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ''আমরা তো আগে নিশ্চিত হবো যে উনি যুক্তরাজ্যে বহাল তবিয়তে আছেন। এটা অবস্থানটা সম্পর্কে তো আমাকে জানতে হবে। এটা এখন আর তখনের কোন বিষয় না। আমরা যখন দুদকের পক্ষ থেকে নিশ্চিত হয়েছি তখনই আমরা এই ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এই ব্যাপার সরকার বা অন্য কারও এজন্ডা বাস্তবায়নের ব্যাপারে দুদক কোনকিছু করেনি।''
এদিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এই আবদন আদালতে মঞ্জুর হওয়ার পর বিএনপি এর প্রতিবাদে বগুড়া জেলায় সোমবার সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালনের ঘোষণা করেছে।

























